হরমুজ প্রণালীতে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:১২ এএম

হরমুজ প্রণালীতে চলাচলরত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার রাতের এ হামলার তথ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। তাদের দাবি, হামলায় দুটি জাহাজই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন জানান, হামলার পর জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকলেও নাবিকরা নিরাপদে ছিলেন। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার ভোরে জানায়, ওমানের লিমা উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে দক্ষিণমুখী একটি ট্যাংকারের বাম পাশে অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাত লাগে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের পর কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হলেও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার আবারও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন হয় তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নয়তো ‘কাজটি শেষ করে দেবে’।

অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত।’ পত্রিকাটি একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর একটি হলো ‘আল রেকায়াত’, যা কাতারের এলএনজি খাতের শিপিং প্রতিষ্ঠান নাকিলাতের মালিকানাধীন ও পরিচালিত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত আরেকটি রেকর্ডিংয়ে বলা হয়েছে, হামলার পর ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায় এবং ধোঁয়ায় পুরো অংশ ছেয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা তখনই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে ছিলেন এবং তারা জাহাজের ডান পাশে একত্রিত অবস্থায় ছিলেন।

এএন