হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর শিথিল করা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। এর জবাব হিসেবেই ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলপথে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতারও লঙ্ঘন।
এ ঘটনায় কাতারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ‘আল-রেকায়াত’ নামের একটি জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে জুন মাসে দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ওই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ইরান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্বশীল আচরণ করলে তবেই ইরান আন্তর্জাতিক সুবিধা পেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ওয়াশিংটন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছে না এবং এর প্রতিক্রিয়া ইরানকে মোকাবিলা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে আবারও চাপ বাড়তে পারে। কারণ দেশটির অর্থনীতির একটি বড় অংশ তেল বিক্রির আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আগে শিথিল হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ পেলেও নতুন সিদ্ধান্ত সেই পথ আবার সংকুচিত করতে পারে।
সূত্র: সেন্টকম
এএন