যুক্তরাষ্ট্রের ১১ যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১১:১৫ এএম

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের হামলায় মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানান, গত ৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়।

মোহেব্বির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও আক্রমণকারী ড্রোন। এ ছাড়া সুরক্ষিত হ্যাঙ্গারে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী আটটি বিমান মাটিতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এগুলো কোন কোন ঘাঁটিতে ছিল, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটন হতাহতের যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি। হামলার স্থানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে হতাহতের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়।

হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের হামলায় ৯টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, পাঁচটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছয়টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার এবং ১৭টি অস্ত্রের গুদামসহ বিপুলসংখ্যক সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইরানের বাহিনী মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা মোট আটটি স্থাপনায় এই হামলা চালায়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য বা উপসাগরীয় কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা করে, তবে তারা তেহরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠবে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লন্ডন যদি ওয়াশিংটনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাজ্যও নিশ্চিতভাবে হামলার শিকার হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে সামরিকভাবে জড়িয়ে রাখছে। ইসরায়েলকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তেহরান কঠোরতম জবাব দেবে এবং এর জন্য তেল আবিবকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।

জেএইচআর