ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের প্রকৃত তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়ার প্রকৃত তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ পরিচালক লিও পানেটা। তার ভাষায়, যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার এ প্রচেষ্টা ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’। অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপ এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত প্রায় আড়াই মাস ধরে পেন্টাগন নিয়মিত কোনো প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করেনি। বিশেষ করে ইরানের হামলায় কতজন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ জনগণের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পরিপন্থী।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। এতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ এ যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ জন সেনাসদস্য। যদিও পেন্টাগনের দাবি, আহতদের উল্লেখযোগ্য অংশ চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।

এদিকে পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে নিহত সেনাদের সংখ্যা কম দেখানোর অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে ব্যাখ্যা দিলেও সমালোচকদের দাবি, এটি তথ্য গোপনেরই অংশ।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গণমাধ্যমের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদকর্মীদের পেন্টাগনে প্রবেশ ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তে সরকারপন্থি পডকাস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে কর্মরত সাংবাদিকদের মতে, উপসাগরীয় যুদ্ধ কিংবা আফগানিস্তান যুদ্ধের সময়ও সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন কঠোর বিধিনিষেধ দেখা যায়নি। তাদের অভিযোগ, বর্তমান পেন্টাগন নেতৃত্ব সংবাদমাধ্যমকে সহযোগী নয়, বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এর রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের প্রকৃত হতাহতের তথ্য প্রকাশ পেলে তা সরকারের জন্য আরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলেই নির্বাচনের আগে তথ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পেন্টাগন। তাদের দাবি, যুদ্ধসংক্রান্ত সব তথ্য যথাসময়ে এবং বাস্তবতার ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও সমালোচকদের বক্তব্য, তথ্য যতই গোপন রাখার চেষ্টা করা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত প্রকৃত তথ্য একসময় সামনে আসবেই।

এএন