স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদক মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিঠুর মালিকানাধীন লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্রেট নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, শেয়ার ও ব্যাংক হিসাবসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বৈধ উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার, ফলে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ দাঁড়ায় ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠু শুধু কৃষিজমি, প্লট ও বাড়িই নয়; বরং স্বর্ণালংকার, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীতেও বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। একইসঙ্গে তার পরিবারের ব্যয় হিসাব ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রকাশিত বহুল আলোচিত পানামা পেপারসে নাম আসে মিঠুর। অভিযোগ রয়েছে, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
শেখ হাসিনার প্রায় পুরো শাসনামলজুড়ে স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়া ছিলেন মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু।
ইএইচ