পরীমণি-কাণ্ডে বিতর্কিত সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁর এই গুরুদণ্ডের প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারসংক্ষেপটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। দ্রুতই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানা গেছে।

২০২১ সালের জুনে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমণি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। তদন্তের সূত্র ধরে পরীমণির সঙ্গে তাঁর অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে দেখানো হয়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালে পরীমণি গাড়ি নিয়ে সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে যান। সে সময় সাকলায়েনের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। পরীমণি সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করে গভীর রাতে (২ আগস্ট দেড়টায়) বাসা থেকে বের হন।

বিষয়টি জানাজানি হলে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সাকলায়েনের মোবাইল ফোনের সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ডস) বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি নিয়মিত পরীমণির বাসায় রাত্রিযাপন করেছেন।

এ ছাড়া সিআইডির জব্দকৃত মোবাইল ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, সাকলায়েন ও পরীমণির মধ্যকার ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তাগুলো কোনো পেশাগত প্রয়োজনে নয়, বরং সম্পূর্ণ অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা এবং বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হয়েও পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো, জন্মদিন উদযাপন ও সরকারি বাসভবনে সময় কাটানোর বিষয়টি পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন তাঁর প্রতিবেদনে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পান। সাকলায়েনের দেওয়া কারণ দর্শানোর (শো-কজ) জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’-এর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

জেএইচআর