জুলাই গণহত্যার বিচারে ধীরগতি কেন, প্রশ্ন তাজুল ইসলামের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই থ্রু দ্য লেন্স অব লিটারেচার’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে ‘রেভোল্যুশন’স ওয়াচ’।

তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিভাষায় ‘জেনোসাইড’ নয়, বরং ‘ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, গত চার মাসে কেন একটি তদন্ত প্রতিবেদনও জমা হয়নি এবং কেন কোনো নতুন বিচার শুরু করা হয়নি।

বিচার দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিচার সম্পন্ন করা জরুরি। অন্যথায় যারা প্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছে, তারা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পেতে পারে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় সম্পর্কে তাজুল ইসলাম বলেন, রায়টি সবার মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। তাঁর মতে, এই রায়ের ভিত্তিতে একটি বই লেখা সম্ভব। পাশাপাশি সাক্ষীদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য নিয়েও পৃথক বই রচনা করা যেতে পারে।

এ সময় তিনি জুলাই জাদুঘর এখনো সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এ পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি মামলার রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।

তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে মো. আমিনুল ইসলাম ওই দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

কর্মশালায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শফিকুল আলম বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, জুলাইয়ের লড়াই এখনো শেষ হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে সাহিত্যকর্ম তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি প্রজন্ম এখনো সেই ঘটনাকে গভীরভাবে অনুভব করছে। সাহিত্য রচনার জন্য সময় ও ঘটনার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বই ও চলচ্চিত্র নির্মিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে পর্যাপ্ত সাহিত্য সৃষ্টি না হলে শক্তিশালী চলচ্চিত্র নির্মাণও কঠিন হবে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে প্রথমে মানসম্মত উপন্যাস রচিত হওয়া প্রয়োজন, তবে তা যেন কোনো ধরনের ফরমায়েশি রচনা না হয়।

চিত্রনাট্যকার মাবরুর রশীদ বান্নাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণ ও ড্রোনচিত্র ধারণ ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি ছিল। কেন এখনো এমন কোনো চলচ্চিত্র তৈরি হয়নি, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কবি হাসান রোবায়েতও বক্তব্য দেন।

এম জি