আইনমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কারও প্রতি অবিচার করতে চায় না। তাই অভিযোগগুলো সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যদি অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে নির্ধারিত বিধান অনুসারেই পরবর্তী সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনায় প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো শর্টকাট নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এম জি