৭ মাসের শিশুকে আছড়ে হত্যা, ৩ দিনের রিমান্ডে বাবা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

রাজধানীর তুরাগে পারিবারিক বিরোধের জেরে সাত মাসের কন্যাশিশু রাফা মনিকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত বাবা কবির ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর রোববার এ আদেশ দেওয়া হয়।

স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে সাত মাস বয়সী কন্যাশিশুকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত কবির ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন শুনে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা সিরাজ মার্কেটসংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় সাত মাসের শিশু রাফা মনিকে রাস্তায় আছড়ে মারার অভিযোগ ওঠে তার বাবা কবির ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরদিন ১৬ জুলাই তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই দুপুরে তার মৃত্যু হয়। পরদিন ১৭ জুলাই শিশুটির নানি শারমীন আক্তার তুরাগ থানায় কবির ইসলামকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান ফয়সাল গত ২৩ জুলাই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য ছিল। বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে রিকশাচালক কবির ইসলামের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান ছিল রাফা মনি। অভিযোগে বলা হয়, কবির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক সেবনের পর প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর ও গালাগাল করতেন।

এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন লিমা আক্তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। সন্ধ্যায় সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কবির ইসলাম নানির কোল থেকে শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় আছড়ে মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন শিশুটির মৃত্যু হয়।

এএন