প্রেস সচিব শফিকুল আলম

গণভোটের সিদ্ধান্ত যাই হোক, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৩:১০ পিএম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গণভোট নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, জাতীয় নির্বাচন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই অনুষ্ঠিত হবে। কোনো পক্ষ বা শক্তিই এ নির্বাচনের সময়সূচি পিছিয়ে দিতে পারবে না।

শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের আয়োজিত 'মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন ২০২৫'–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব বলেন, 'গণভোট প্রসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান জানিয়েছে। আমরা এগুলোকে হুমকি নয়, গণতান্ত্রিক মতামতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছি। প্রধান উপদেষ্টা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেশের সর্বোত্তম স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবেন।'

তিনি আরও জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার মামলার শুনানির দিন আদালত নির্ধারণ করবেন, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অবদান স্মরণ করে শফিকুল আলম বলেন, 'স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নারী–পুরুষ একসঙ্গে রাজপথে ছিলেন। আজ দেশের উন্নয়ন, প্রশাসন ও প্রযুক্তিক্ষেত্রেও নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এটাই নতুন বাংলাদেশের শক্তি।'

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম প্রমি। 

প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল, বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাঈল হোসেন।

প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি–মনন ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে ফাউন্ডেশনের এই আয়োজনকে উপস্থিত অতিথিরা সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেস সচিবের বক্তব্যে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে গণভোট হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নির্বিশেষে নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এতে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হলেও, বিভিন্ন দল এখনও গণভোট ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে গণভোট আয়োজনের দাবি সামনে এনেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। কেউ এটি 'জনমতের যাচাইয়ের মাধ্যম' হিসেবে দেখছে, আবার কেউ বলছে এটি নির্বাচনের বিলম্ব ঘটানোর কৌশল হতে পারে।

তবে সরকারপক্ষ বারবার বলছে, সংবিধান ও ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন হবে, যাতে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা না তৈরি হয়।

ইএইচ