মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞের প্রভাব অল্প সময়ের মধ্যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এডিটর’র কাউন্সিলে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্দোলনে নিহত পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি দ্রুত পূরণ করা কঠিন হলেও পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর তাঁদের আস্থা রয়েছে।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত এই সনদকে ঘিরে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, সেসব বিষয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপি জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

এ সময় সংবিধান সংশোধন কমিটির আলোচনায় অংশ নিয়ে মতপার্থক্য দূর করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী সংগঠন নয়; এটি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া ইলিয়াস আলীসহ প্রায় এক হাজার ৭০০ জনকে গুম করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে অতীতের তোষামোদনির্ভর সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বক্তব্য দেন এডিটর কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতারা।

এম জি