নতুন নেতৃত্বের খোঁজে আওয়ামী লীগ: যারা আসছেন সামনের সারিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৯:০৭ পিএম

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এখন দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কারা দেবেন এবং কোন পথে পুনর্গঠনে এগোবে আওয়ামী লীগ। সমর্থক থেকে বিশ্লেষক সবার নজর এখন দলটির সম্ভাব্য পরিবর্তন ও নেতৃত্বের রূপান্তরের দিকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের ধারাবাহিকতাতেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ভারতের আশ্রয়ে থাকায় সেটি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তারপরও অনেকে এটিকে তার ‘রাজনৈতিক অবসান’-এর সূচনা হিসেবে দেখছেন। 

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপও বলেছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার ফের সক্রিয় হওয়া এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে অতীতের ভুল স্বীকার করে নতুন, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতার পথেই দলটির পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি কিংবা পরিবার রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না সংবিধানই সর্বোচ্চ।

দলের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যে তিনটি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তার প্রথমটি সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ৫ আগস্টের ঘটনার পর তাকে প্রকাশ্যে তেমন দেখা না গেলেও তিনি সরকারের নজরদারির মধ্যেই আছেন বলে জানা গেছে। আগামী সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে সংবিধানগত দায়িত্ব পালনে তাকেই প্রয়োজন হতে পারে।

দ্বিতীয় সারিতে উঠে আসছে দুই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নাম সাবের হোসেন চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আইভী বর্তমানে কারাগারে; কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও তাকে নতুন পাঁচ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে সাবের হোসেন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্ত। তিনি এখন সম্পূর্ণ নীরব কোনো মন্তব্য বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন না। তবে সম্প্রতি তার বাসায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘ ইতিহাস ও সমর্থনভিত্তির এই দল এখন সবচেয়ে বড় সঙ্কটের মুখে। নেতৃত্বের আসন্ন পরিবর্তন আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাবে সেটিই এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।

ইএইচ