বাংলাদেশে আলজেরিয়ার দূতাবাসে আরবি ভাষা আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫ উদযাপন

আবু তাহের প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম

বাংলাদেশে আলজেরিয়ার দূতাবাস ঢাকাস্থ দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আনুষ্ঠানিক ও প্রাণবন্ত আয়োজনের মাধ্যমে আরবি ভাষা আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫ উদযাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতা, ইসলামী চিন্তাবিদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরবি ভাষার প্রসার ও প্রতিষ্ঠায় আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক ও ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে আরবি ভাষার ব্যবহারের পক্ষে আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের সক্রিয় সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়। 

আলোচনায় স্মরণ করা হয় ১৯৭৪ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা, যখন তৎকালীন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হুয়ারি বুমেদিন ফিলিস্তিনি প্রশ্নে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে আরবি ভাষায় ভাষণ দেন। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরবি ভাষার মর্যাদা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত মহামান্য আব্দেলৌহাব সাইদানী এবারের প্রতিপাদ্য আরবি ভাষা: নতুন যোগাযোগ প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের যুগ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এর আলোকে আলোচনা করেন। 

তিনি বলেন, আরবি ভাষা কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি বিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃতি ও কূটনীতির একটি সমৃদ্ধ সভ্যতাগত বাহক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই যুগে আরবি ভাষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণের সক্ষমতার ওপর।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আরবি ভাষা শিক্ষা জোরদার করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষার ডিজিটালাইজেশন ও গবেষণা উৎসাহিত করা, আরবি সাহিত্য ও অনুবাদ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান এবং একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে আলজেরিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন আরবি ভাষাকে সভ্যতা ও বিশ্বাসের ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে এর ঐতিহাসিক বিকাশ ও সমসাময়িক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট বুমেদিনের আরবি ভাষায় ভাষণকে জাতিসংঘের সরকারি ভাষা হিসেবে আরবির স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইন শিক্ষার যুগে আরবি ভাষার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে তরুণ প্রজন্ম ও ডিজিটাল কনটেন্টে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আলজেরিয়ার চারজন শিশু শিক্ষার্থীর বক্তব্য, যেখানে তারা আরবি ভাষার গুরুত্ব ও সৌন্দর্য তুলে ধরে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এছাড়া আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ভাষাটির ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ও ডিজিটাল যুগে এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আলজেরিয়ার দূতাবাস জ্ঞান, সংলাপ ও উদ্ভাবনের একটি গতিশীল মাধ্যম হিসেবে আরবি ভাষার প্রসারে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যা ঐতিহ্যের শিকড়ে দৃঢ় থেকেও ভবিষ্যতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত।

জেএইচআর