বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পেছনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে একটি প্রহসনমূলক ও সাজানো রায়ের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দীর্ঘ সময় অকথ্য নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়েও এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। যদি তাঁকে এমন নির্যাতনের মুখোমুখি হতে না হতো, তবে আমরা হয়তো দেশনেত্রীকে এত দ্রুত হারাতাম না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, তাঁর এই অকাল মৃত্যুর পেছনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেগম জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিক ছিল। প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সবসময় তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও বিদেশ ভ্রমণের উপযোগী হলে সরকার তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতিও রেখেছিল।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা যদি বেগম জিয়াকে আরও এক-দুই বছর আগে পেতাম, তবে তাঁকে সুস্থ করে তোলার সুযোগ থাকত। তবে তিনি দেশবাসীর অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন।
আসিফ নজরুল আরও জানান, বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ দুপুরেই একটি উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সভায় প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দাফন ও জানাজায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বৈঠকে উপদেষ্টারা বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন এবং সাম্প্রতিক সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনার বিষয়টিও স্মরণ করেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তিনি দেশবাসীকে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে তাঁর জানাজায় শরিক হওয়ার অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এই আপসহীন নেত্রী।
জেএইচআর