বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহন নিয়ে টিআইবির আপত্তি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভার বহন করার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়েছে, তাকে ‘অপরিণামদর্শী’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে টিআইবির প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ:

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি দিয়ে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর যে ঠুনকো যুক্তি ইসি দিচ্ছে, তা হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। যখন নির্বাচন কমিশন নিজেই পর্যবেক্ষকদের আতিথেয়তা দেবে, তখন তারা কতটা স্বাধীন ও নির্মোহভাবে নির্বাচনকে মূল্যায়ন করতে পারবেন, সে ব্যাপারে জনমনে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হবে। এতে করে তারা ‘ভাড়াটে’ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ইসি যদি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহন করতে পারে, তবে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না? টিআইবি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত সুস্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক এবং এটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

টিআইবি উল্লেখ করেছে যে, ২০০৮ বা তার আগের নির্বাচনগুলোতে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে বিদেশিদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই প্রবণতা কেন দেখা গিয়েছিল, তা বর্তমান কমিশনকে ভেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, বিতর্কিত নির্বাচনগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করতে অতীতের সরকারের নেওয়া সেই একই পথ অনুসরণ করা বর্তমান কমিশনের জন্য অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তারা কোন নৈতিকতার মানদণ্ডে সরকারের অর্থায়নে এই দায়িত্ব পালন করবেন? তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো ইসির এই আতিথেয়তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

টিআইবি বিশ্বাস করে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার মতো কোনো পথে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পা বাড়াবে না।

জেএইচআর