মব সহিংসতা (গণপিটুনি বা বিশৃঙ্খলা) নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন।
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মব সহিংসতা এখন বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা নির্বাচনী সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে।
এক্ষেত্রে সরকারের দায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সচিবালয়ে মব সৃষ্টির পর থেকেই মূলত এর উৎপত্তি, যা সরকারের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের অপব্যবহার সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব শক্তির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে।
তার মতে, সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ ছাড়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর প্রয়োগ না হওয়াকে নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে টিআইবি উল্লেখ করেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে তা পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহার কারণে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুপারিশগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়ন না হওয়া একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে টিআইবি জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এ ছাড়া র্যাব বিলুপ্তি ও গোয়েন্দা বাহিনীর সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান নেতিবাচক বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় রাষ্ট্র সংস্কারের ১৮টি পদক্ষেপের অগ্রগতি ও ঘাটতি তুলে ধরা হয়।
ইএইচ