ঈদের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় নিয়োগ 

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ১১:২৩ এএম

আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারসহ মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রথমবারের মতো এসব পদে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ জানুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং এতে ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এপ্রিলের সময়সূচি বাতিল করে ঈদের পরপরই পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীর ইস্কাটনে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্নের প্রস্তুতি নিতে বলেন। প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন এগিয়ে এনে পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের মাধ্যমে। এর মধ্যে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ লিখিত পরীক্ষা, ১২ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং ৮ নম্বর মৌখিক পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় এক ঘণ্টায় ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। প্রতিটি ধাপে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক। বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানও মূল্যায়ন করা হবে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে। ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২৬ হাজার ৮২৬ জন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৯২৩টি শূন্যপদের জন্য আবেদন করেছেন ১৯ হাজার ৮৩৮ জন। ডিগ্রি পাশ কলেজের উপাধ্যক্ষের ৬২৭টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৬ হাজার ৮২ জন।

এছাড়া বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দাখিল মাদ্রাসা, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানসহ বিভিন্ন পদে হাজারো প্রার্থী আবেদন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান পদে নিয়োগ দিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদ। অনিয়ম ও স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় এবার কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএন