রমজানের পবিত্র মাসে রোজাদারদের জন্য মানবিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মহাখালীর গাউছুল আজম মসজিদ। টানা ৩৫ বছর ধরে এখানে অসহায়, পথচারী, চাকরিজীবী, ছাত্র ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার আয়োজন করা হচ্ছে মসজিদে।
প্রতিদিন বিকেল হলেই মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, পথচারীসহ অনেকেই এখানে এসে একসঙ্গে ইফতার করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসরের নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় ইফতার প্রস্তুতির ব্যস্ততা। স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা সারিবদ্ধভাবে ইফতারির প্লেট সাজাতে ব্যস্ত থাকেন। স্বেচ্ছাসেবক নাজমুল হোসেন জানান, আমি গত ৫ বছর ধরে এই কাজ করছি, কখনো খারাপ লাগেনি বরং ভালো লাগে। রোজাদারদের জন্য করতে আমার জন্য ভাগ্যের ও খুশির একটা কাজ৷
মসজিদের খাদেম আশরাফ হোসেন আমার সংবাদকে জানান, মসজিদ প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর ধরে এই ফ্রি ইফতার আয়োজন করা, গড়ে প্রায় ২৫০০-৩০০০ লোকের জন্য পুরো রমজান মাস জুড়ে চলে আয়োজন। মসজিদ কমিটির উদ্যোগে এবং দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে এই ইফতার কর্মসূচি। স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে রোজাদারদের মাঝে বিতরণ করা হয় ইফতার সামগ্রী।
তিনি আরো জানান, প্রতিদিনের ইফতারের তালিকায় থাকে পেয়াজু, খেজুর, মুড়ি, ছোলা, কলা, বেগুনি, আলুরচপ, জিলাপি, পিঠা ও শরবত৷ নারীদের জন্যও রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা। আলাদা মহিলা মসজিদে তাদের জন্য ইফতার ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে।
ইফতার করতে আসা বহু মুসল্লী জানান, তারা বহু বছর ধরেই এখানে ইফতার করছেন। বিনামূল্যে এমন সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক আয়োজন তাদের মুগ্ধ করে। অনেকেই বলেন, এখানে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে যে সাম্যের চিত্র ফুটে ওঠে, তা রমজানের প্রকৃত শিক্ষা সংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করে। যারা পরিবার ছাড়া ঢাকায় থাকেন তারা বেশ উপভোগ করেন এভাবে দলবদ্ধ হয়ে ইফতার করা৷
দীর্ঘ ৩৫ বছরের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ শুধু ইফতার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রমজানের সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে গাউছুল আজম মসজিদ।
এএন