দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাংশন ওয়েভার’ (নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুমতি) চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই মাসের জন্য অথবা সর্বোচ্চ ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যে এই স্যাংশন ওয়েভার চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির কৌশল গ্রহণ করেছে। রাশিয়া ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাব্য বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা হলে দেশের জ্বালানি খাত আরও স্থিতিশীল হবে এবং সরবরাহ সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
এএন