বাংলা নববর্ষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা এবার উপভোগ করলেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণের সামনে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রার বর্ণিল আয়োজন উপভোগ করেন তারা। উৎসবের রঙ, ঢাক-ঢোল আর প্রতীকী মোটিফে সাজানো শোভাযাত্রা বিদেশি অতিথিদের নজর কাড়ে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক শোভাযাত্রা দেখতে আসেন। তারা মোবাইল ফোনে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ এবং সেলফি তুলে উৎসবের মুহূর্ত ধরে রাখেন।
এ ছাড়া ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও শোভাযাত্রা দেখতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) জানান, বিভিন্ন দেশের বহু কূটনীতিক এবারের শোভাযাত্রা উপভোগ করেছেন। অনেকেই সস্ত্রীক অংশ নিয়েছেন এবং পুরো আয়োজনটি উপভোগ করেছেন।
এদিন সকাল ৯টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের হয়।
শোভাযাত্রাটি চারুকলার ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ থানার সামনে ঘুরে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর এবং বাংলা একাডেমি হয়ে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।
এবারের শোভাযাত্রা নিয়ে কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে। আগে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামে পরিচিত এই আয়োজন থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দিয়ে গত বছর নাম রাখা হয় “বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা”, আর এবার সেটি পরিচিত হচ্ছে “বৈশাখী শোভাযাত্রা” নামে।
নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পহেলা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা, যার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শোভাযাত্রা।
এএন