কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে ইরান সরকার।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর মধ্যে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের যাতায়াত সহজ করতে ইরানের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইরান পূর্বে হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতিপ্রাপ্ত ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করলে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।
এর প্রেক্ষিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তোলেন এবং পরে রোববার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করবেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন দেশের জাহাজে হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন ও বাণিজ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইরানের নতুন এই নির্দেশনার ফলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ অন্যান্য বাংলাদেশি জাহাজের চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এম জি