বিমানবন্দরে প্রবেশ করা মাত্রই বিদেশগামী যাত্রীদের ঘিরে ধরছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। হাতে র্যাপিং পেপার নিয়ে সুযোগ পেলেই তারা যাত্রীদের লাগেজ মোড়ানোর কাজ শুরু করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীর অনুমতি কিংবা সম্মতির তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক লাগেজ র্যাপিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লাগেজ নিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করার পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরে দ্রুত র্যাপিং করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কেউ রাজি না হলে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, আবার অনেক সময় না জানিয়েই লাগেজে পেপার লাগানো শুরু করে দেন তারা।
কয়েক দিন আগে চক্রটির কয়েক সদস্যকে আটকের পর কিছু সময়ের জন্য তাদের দৌরাত্ম্য কমে গিয়েছিল। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। তবে বর্তমানে আবারও আগের মতো সক্রিয় হয়ে উঠেছে ওই চক্র। ফলে নতুন করে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিদেশগামী যাত্রীরা।
অভিযোগ রয়েছে, র্যাপিং শেষ হওয়ার পর শুরু হয় টাকা আদায়ের চাপ। কারও কাছ থেকে ২০০ টাকা, কারও কাছ থেকে ৪০০ টাকা, আবার অনেকের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত কোনো মূল্য তালিকা না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে প্রথমবার বিদেশগামী যাত্রী, নারী যাত্রী ও বয়স্করা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। অনেকেই পরিস্থিতি এড়াতে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন।
এ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বহু যাত্রী অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চক্রটি বারবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন অনিয়ম, হয়রানি ও জবরদস্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরানো হয়। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, সেখানে এমন কর্মকাণ্ডে প্রশ্ন উঠছে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে চুরি, ছিনতাইসহ আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এএন