আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন একবারে না করে কয়েক ধাপে কার্যকর করা হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
জানা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই সংশোধিত বেতন কাঠামোর আংশিক সুবিধা কার্যকর হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে বর্ধিত মূল বেতনের অর্ধেক দেওয়া হবে। পরবর্তী অর্থবছরে অবশিষ্ট অংশ যোগ করা হতে পারে। এরপর তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। শুধু চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতেই প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। সেখানে বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের বেতন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশাসনে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এএন