বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও শ্রমবাজারের উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম রনি এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের কল্যাণ এবং কাতারে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ আরও উন্নত করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। তিনি কাতারের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কাতারের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে অবদান রেখে চলেছেন। বাংলাদেশ এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় এবং বহুমুখী করতে আগ্রহী।
কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কাতার সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও সততার উচ্চ মূল্যায়ন করে। শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল কাতারে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
দক্ষ জনশক্তির চাহিদা, কাতারের শ্রমমন্ত্রী জানান, কাতার বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এবং সুনির্দিষ্ট খাতে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি (IT), স্বাস্থ্যসেবা (নার্স ও চিকিৎসক), প্রকৌশল এবং আতিথেয়তা (Hospitality) খাতে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে কাতার ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রী কাতারকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ তার যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলছে। কাতারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী সরবরাহে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই লক্ষ্যে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়। প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা
বৈঠকে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপিত হয়।
কাতারের উন্নয়নে আমাদের প্রবাসীরা রক্তঘাম ঝরানো পরিশ্রম করছেন। তাদের আইনি সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এর জবাবে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বলেন, কাতার সরকার বিগত বছরগুলোতে তাদের শ্রম আইনে ব্যাপক সংস্কার এনেছে। কাফালা ব্যবস্থার বিলুপ্তি, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় নতুন আইন প্রণয়নের ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা এখন অনেক বেশি সুরক্ষিত। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেকোনো কর্মীর আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হলে কাতার প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। কেবল শ্রমবাজারই নয়, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে যৌথ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতার সরকারের আমির এবং দেশটির জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে কাতারের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অবশেসে, কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেএইচআর