স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করার পরিকল্পনা ইসির

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনী) সদস্যদের ভোটের দায়িত্বে মোতায়েন না করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য রেখে এই নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ছয়শ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে।

এ ছাড়া আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২,৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়োপযোগী হবে। ইতিমধ্যে ১২টি সিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করেছে সরকার।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে বগুড়া সিটি গঠিত হয়েছে। সেটির সীমানার কারণে কোনো ইউনিয়ন পরিষদ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমানা পরিবর্তন হলো কি না এবং কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা তফসিলের আগেই সুরাহা করতে হবে।

এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও কোনো পৌরসভা, উপজেলা বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকারের সীমানা নিয়ে মামলা থাকলে সেই তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলেও তার গেজেট এখনো পায়নি ইসি। গেজেট পাওয়ার পর সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিধিমালাগুলো সংশোধন করবে। বর্তমানে এই নিয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে আইন সংস্কার কমিটি কাজ করছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে।

এই কমিটি প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক প্রমাণের বিষয়টি বাদ দেওয়া, ইভিএম ও পোস্টার ব্যবহার বন্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচন প্রচারে উপজেলায় এমপিদের অফিস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনের গেজেট পাওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নিতে কমিশন বৈঠকে এগুলো তোলা হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম এবং বাজেট চূড়ান্তকরণসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ ও বিধিমালা সংশোধনের জন্য কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে শীতে উপযুক্ত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নভেম্বর বা ডিসেম্বরের দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে।

এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, সরকারের পরিকল্পনা হলো আগামী এক বছরের মধ্যে পাঁচ স্তরের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন) স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা। 

বাজেট প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হতে পারে, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বসে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল নিয়ে আলোচনা করবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমাদের সামনে এখন বিধিমালা সংশোধনের কাজ রয়েছে। প্রয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। আশা করি আগামী এক বছরের মধ্যেই আমরা স্থানীয় নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করতে পারব।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমনটা আমরা ভাবছি না। তবে সময় আসুক, তখন কমিশন বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

জেএইচআর