ডা. জাহেদ ইস্যু

ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে‌ গতকাল রোববার প্রবেশে সাময়িক বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অসন্তোষ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের একজন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ বিষয়টির ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, জাহেদ উর রহমান সরকারি সফরের অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছালে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিতে বিলম্ব করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সফর সম্পর্কে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আগাম অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রবেশ প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়।

ঘটনার পরপরই দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। পরে উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে তাঁর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী দিল্লিতে অবস্থান না করে অন্য রুটে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কলম্বো হয়ে সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ এবং ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক প্রথা ও পারস্পরিক সম্মানের আলোকে এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশিত নয়। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট জানতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই কোনো উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে বিমানবন্দরে এমন আচরণ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে পূর্বনির্ধারিত সফর ও আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণের পরও যদি প্রবেশে জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে তার কারণ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তাঁরা মনে করছেন, বিষয়টি দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্ককে প্রভাবিত করার মতো পর্যায়ে না পৌঁছালেও দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি। কারণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এ ধরনের চলে ঘটনা অপ্রয়োজনীয় ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। এখন ভারতের ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে উভয় দেশ আরও সতর্ক থাকবে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফলে দিল্লি বিমানবন্দরের এই ঘটনা সাময়িক কূটনৈতিক অস্বস্তির সৃষ্টি করলেও দুই দেশের সম্পর্কের বৃহত্তর পরিসরে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী যোগাযোগ ও ব্যাখ্যার ওপর।

এএন