চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে একই স্থানে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে সকালে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান সফর করেন। সেখানকার কর্মসূচি শেষে বুধবার বেইজিং পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক লালগালিচা সংবর্ধনা দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়।
একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরসূচির অংশ হিসেবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এছাড়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি।
চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সফর শেষে আজ বিকেল ৫টায় (স্থানীয় সময়) প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এএন