অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সম্প্রতি জুন মাসে গ্রাহকদের কিছু বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি এসেছে- এমন অভিযোগের মধ্যে বিভাগটি জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল শনাক্তও করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত বিলের পেছনে শুধু ট্যারিফ বৃদ্ধি নয়, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চতর স্ল্যাবের প্রভাবও রয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে করণিক ভুলও পাওয়া গেছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধন করা হয়েছে। এ ধরনের ভুলের কারণে গ্রাহকদের কাছে ভুল বিল পৌঁছানোর ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
একটি উদাহরণ টেনে সচিব বলেন, খাগড়াছড়িতে একটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে ইউনিট গণনায় ভুল হয়েছিল। সেখানে ৭০ ইউনিটের জায়গায় ভুলবশত ৭০০ ইউনিট ধরা হয়, যার ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বিল তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়ার পর সেটি সংশোধন করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বিতরণ সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, সিস্টেম লস কমানো, প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাদের বিল নিয়ে কোনো সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে তারা যেন সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃযাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এএন