পুলিশের সিটিটিসি ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের নাম পরিবর্তন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দুটি সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এখন থেকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ নামে পরিচিত হবে। একইভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি দুটি ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যপরিধিও আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ করার অনুমোদন চেয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় ৮ জুন ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদ দমনের পাশাপাশি নতুন ধরনের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত কাঠামোর পরিবর্তে আরও বিস্তৃত দায়িত্বসম্পন্ন একটি ইউনিট গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তন হলেও ইউনিটগুলোর মূল নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী দায়িত্ব বহাল থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের (মিডিয়া) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে ইউনিটগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি অতীতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনে নতুন পরিচয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের বিস্তার এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। এ বাস্তবতায় প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হামলায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২২ জন নিহত হন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। বর্তমানে ইউনিটটির অনুমোদিত জনবল ৬২০ জন এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে আগের চেয়ে আরও আধুনিক কৌশল ব্যবহার করছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তারা ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষকে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়া, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করে গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

এসব পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় এটিইউকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে’ রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আরও বিস্তৃত দায়িত্ব পালন করবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য। ফলে বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানো সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ক্ষেত্রেও নতুন এই কাঠামো আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এএন