আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা হয়রানির কোনো সুযোগ রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকার এমন একটি বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করছে, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পলাতক আসামিদের পক্ষেও সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’-এর বিধান অনুসারে পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে ১৭টি মামলায় ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স লইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনি সহায়তার সুযোগ পাচ্ছেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কেবল প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের বিষয়েই অঙ্গীকারবদ্ধ।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গুম, খুন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশোধিত আইনের ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচারাধীন ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে পরামর্শ করার সুযোগও নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে পলাতক থেকে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিচার কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রাধান্য পাবে না।
এএন