ডা. জাহেদ

আরব বসন্ত-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ বর্তমানে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দমন-পীড়ন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বুধবার (৮ জুলাই) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ আয়োজিত ‘মননে জুলাই’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের বিতর্ক, বিভাজন ও হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এসব বিষয় আগেই অনুমান করা হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বাংলাদেশে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতন কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক প্রতিরোধের কারণেই এ পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর মামলা, কারাবাস, গুম, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল এবং জীবিকা হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অনেকে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এসব ত্যাগ ও প্রতিরোধ ধীরে ধীরে স্বৈরশাসনকে দুর্বল করেছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। পরবর্তীতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা সামনে এলেও গণ-অভ্যুত্থানের অভিন্ন দাবি ছিল স্বৈরশাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

অনুষ্ঠানে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীর সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

এম জি