স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ভারসাম্য আনতে চিকিৎসকদের শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না থেকে উপজেলা পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করতে হবে। তার মতে, চিকিৎসকদের ঢাকার বাইরে যেতে অনীহা থাকায় রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না এবং এর প্রভাবেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একদিকে সবাই চান উন্নত হাসপাতাল ও আধুনিক অবকাঠামো, অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এ ধরনের দ্বৈত মানসিকতা দেশের সীমিত সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি মন্তব্য করেন, সীমিত সম্পদের দেশে সব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। শুধু ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ে না, রোগীদের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল এবং তাদের সুষম বণ্টন।
ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে দেশের উপজেলা শহরগুলো আগের মতো প্রত্যন্ত বা অনুন্নত নেই। অধিকাংশ উপজেলায় আধুনিক নাগরিক সুবিধা গড়ে উঠেছে, এমনকি বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও সামাজিক অবকাঠামোও রয়েছে। তাই চিকিৎসকদের উচিত ঢাকার বাইরে গিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।
চিকিৎসা খাতের নীতিমালা নিয়েও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অযৌক্তিকভাবে প্রতিটি হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় পরিকল্পিত উন্নয়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ২৫টি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শে এদিন একটি তথ্যসমৃদ্ধ ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ কর্মপরিকল্পনায় চিকিৎসকদের উত্থাপিত প্রতিটি যৌক্তিক বিষয় বিবেচনায় রেখে সমাধানের উদ্যোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে চিকিৎসকদের শুধু ব্যক্তিগত পেশাগত উন্নতির দিকে নজর দিলে হবে না। পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার ও জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
এএন