নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি এ বক্তব্য দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
এর আগে একই দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
পরে শিক্ষার্থীরা আড়ংয়ের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের একাংশ পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।
বিকাল ৫টার দিকে সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে পরদিনের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীবান্ধব করারও আহ্বান জানান।
সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘তুমি কে, আমি কে? ফার্মের মুরগি’ এবং ‘কে বলেছে, কে বলেছে? শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এম জি