দেশে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য, দ্রুত ও মানসম্মত করতে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্স (আইএনএমপি) এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের ফলে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমবে এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
মঙ্গলবার ঢাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় ক্যান্সার রোগীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, রেডিয়েশন অনকোলজি, মেডিকেল ফিজিক্স, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ (কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স), গবেষণা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্স (আইএনএমপি) এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিআরএইচ)।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ সিরিয়াল চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব ঘটায়, যা রোগীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পাশাপাশি আইএনএমপিতেও ক্যান্সার রোগীরা আধুনিক ও সুবিধাজনক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে এনআইসিআরএইচের ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং অপেক্ষমাণ তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া রোগীরা উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিউক্লিয়ার মেডিসিন, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং থেরাপিউটিক সেবা আরও দ্রুত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ সমন্বিত উদ্যোগ দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও রোগীবান্ধব করে তুলবে।
সমঝোতা স্মারকে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পক্ষে পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিকেল ফিজিক্স (আইএনএমপি), এইআরআই-এর পক্ষে পরিচালক মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএন