মতিঝিলে ‘ছাতা বোমা’র উপকরণ পরীক্ষা ও উৎসের তদন্ত চলছে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী আইইডি বা পাইপ বোমার বিভিন্ন উপকরণের ফরেনসিক পরীক্ষা করছে পুলিশ। পাশাপাশি বোমার উৎস ও এর পেছনে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, ছাতার ভেতরে অভিনব কৌশলে রাখা বোমাটি জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি, যাতে সার্কিট ও ব্যাটারি যুক্ত ছিল। গত শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রা যখন মতিঝিলের মেট্রোস্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন পুলিশ বোমাটি ঘিরে রাখে। রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের আতঙ্কিত না করতে পুলিশ তখন ‘শর্টসার্কিট’-এর কথা বলে তাঁদের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রথযাত্রায় বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই এটি সেখানে রাখা হয়েছিল।

এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন। এজাহারে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জীবন বিপন্ন করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, বোমাটি ছাতার সাথে এমনভাবে লাগানো ছিল যে, কেউ কৌতূহলবশত ছাতার বোতাম চাপলেই বিস্ফোরণ ঘটত এবং এতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটত। এটি কারা এবং কী উদ্দেশ্যে করেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশসহ একাধিক সংস্থা তদন্তে নেমেছে। কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বোমা এবং যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের সাথে এ ঘটনার কোনো সম্ভাব্য যোগসূত্র আছে কিনা, তাও যাচাই করা হচ্ছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রথযাত্রার নিরাপত্তায় দায়িত্বরত এক সার্জেন্ট ছাতায় লাল আলো মিটমিট করতে দেখে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানান। পরে মতিঝিল থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানটি ঘিরে ফেলে। রথযাত্রা শেষ হওয়ার পর রাত পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা আলামতের মধ্যে জিআই পাইপের টুকরো, ব্যাটারি, বিদ্যুতের সার্কিট এবং অসংখ্য বিয়ারিং বল রয়েছে। বোমাটির ভেতরে প্রায় দেড় কেজি বিস্ফোরক পদার্থ ও বিপুল সংখ্যক লোহার টুকরো ছিল। প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া এ ধরনের শক্তিশালী বোমা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জেএইচআর