আগামীকাল বিএনপির অবস্থান কর্মসূচী, চাপে থাকবে ক্ষমতাসীনরা, জামায়াতের ক্ষোভ

মোঃ সোহাগ বিশ্বাস প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৩, ০৫:৩১ পিএম

সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামীকাল বুধবার বিএনপি ও সমমানা রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে। ওই দিন সকাল ১১টা থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা এই কর্মসূচী পালন করবে।

এ নিয়ে দলগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ  নেতারা। গণ অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন কোন যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মূল দল বিএনপি ইতিমধ্যে সম্ভাবনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে পরর্বতী কর্মসূচি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে জেলা থেকে জেলায় লংমার্চ,রোডমার্চ,পদযাত্রা ও পথসভা। এছাড়া ২৫ জানুয়ারি ‘বাকশাল দিবস’ নিয়েও হয়েছে আলোচনা।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ের বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ গণ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস কারাবন্দী ছিলেন।

গত সোমবার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতা। বিএনপি মহাসচিবের মুক্তিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, সরকার মনে করেছিল আগামী ১১ জানুয়ারি বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে পারবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি দেখাবার জন্য মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে পাহারায় থাকতে বলেছেন। বিএনপির এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনরা ঢাকার উত্তর ও দক্ষিনে দুটি সমাবেশেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।  

বিএনপি নেতারা বলছে আগামী ১৪ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ৷ এর কারনেই সরকার নিজেরাই চাপে আছে তাই তাদের মধ্যের এই ভীতি দূর করতেই বিএনপির কর্মসূচীর দিন তারা পাল্টা কর্মসূচী দিয়েছে।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মুক্ত হওয়াতে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করেন বিএনপির অনেক নেতা।  তারা মনে করছেন, গণ অবস্থানের দিন মির্জা ফখরুলের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের সাহস বাড়াবে, তার উপর গত সোমবার মির্জা ফখরুল ও আব্বাস মুক্ত হয়েই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আসেন সেখানে হাজারো নেতাকর্মীরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।  

সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম করে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের অংশগ্রহণে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে এবং সরকারের পতন ঘটবে।’

কারাগারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘এরা চোর নয়, ডাকাত নয়। কারাগারে আমাদের নেতা-কর্মীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এরা রাজবন্দী। এঁদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের ভালো ও মানবিক আচরণ করতে হবে।’রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে ‘অবৈধ’ সরকারের পতন ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। সরকার পতনের আন্দোলনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দীর্ঘদিন পর তাদের এই উপস্থিতে নেতা কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। আগামী ১১ জানুয়ারীর আগে বিএনপির মহাসচিব ও মির্জা আব্বাসের এই মুক্তিতে বিএনপির এই যুগপৎ আন্দোলন যেমন বেগবান হবে তেমনি সরকারও চাপে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপি সহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর এই যুগপৎ আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী থাকবে কিনা এ নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কেননা গত ৩০ ডিসেম্বরর কর্মসূচির পর বিএনপির পক্ষ থেকে কোন যোগাযোগ করা হয়নি। দলটির নেতারা বলছে গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার মালিবাগে গণমিছিলে পুলিশি আক্রমণ করা হলে অনেক নেতাকর্মী আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে। এ পর্যন্ত বিএনপির দিক থেকে কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি।

এমনকি জামায়াতের কোন নেতার সাথে যোগাযোগও করা হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন,  এ নিয়ে জামায়াতের মধ্যে অসন্তোষ আছে, ৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে বিএনপি থেকে আমাদের সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি তবুও আমারা যুগপৎ আন্দোলনে আছি।  আগামী ১১ জানুয়ারী বিভাগীয় শহরগুলোতে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করবে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়াও যুগপৎ আন্দোলনেও থাকবেন বলে জানান জামায়াতের একাদিক নেতা।

এ অবস্থায় যুগপৎ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নয়াপল্টনের গণ অবস্থান কর্মসূচির প্রধান অতিথি থাকবেন। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে কুমিল্লায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সিলেটে গয়শ্বর চন্দ্র রায়, রাজশাহীতে ড.আবদুল মইন খান, ময়মনসিংহে নজরুল ইসলাম খান,  চট্রগ্রামে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রংপুরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু,ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে খুলনায় শামসুজ্জামান দুদু, ফরিদপুরে আহমদ আজম খান থাকবেন। এসব কর্মসূচি সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করে নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হবে গণ অবস্থান কর্মসূচি, প্রস্তুতি ভালো। প্রচুর নেতাকর্মীর উপস্থিতিতি ঘটবে বলে আশা করছি।

যুগপৎ আন্দোলনের শুরুতে গণমিছিলের কর্মসূচিতে সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটগুলা প্রভাব ফেলতে না পারলেও এবারের কর্মসূচিকে ঘিরে না না তৎপরতা শুরু করেছে তারা। তাই এই অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি ছাড়াও সাত দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ,১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয়  জাতীয়তাবাদী সমমনা দল সহ মাঠে থাকবে ৩৪ টি রাজনৈতিক দল ও ১৫ টি পেশাজীবি সংগঠন।

এবি