সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কারের দাবিতে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবেন।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে? আন্দোলন আমরা করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। তবে আমাদের ১১ দল একত্রে দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব।” জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট সংবিধানের অধীনে হয় না; এটি সম্পন্ন হয় জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে।
তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের অনেক কিছু ছাড়াই এ পর্যন্ত আমরা এসেছি। যেমন—ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের কোনো প্রভিশন নেই। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে—এমন পরিস্থিতিতেও আমরা আইনের অনেক ব্যত্যয় ঘটিয়েই এই জায়গায় এসেছি।” বিষয়টি দলীয় নয় বরং জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইন জনগণের জন্য, আইনের জন্য জনগণ নয়; সংবিধান জনগণের জন্য, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। অতীতেও এমন গণভোট হয়েছে যা সংবিধানে ছিল না, কিন্তু জাতি তার ফল ভোগ করেছে।”
সংবিধান সংস্কারে সরকারের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “সংস্কর্তা পরিষদ ও পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত নোটিশের ভিত্তিতে যদি কোনো কমিটি গঠন করা হয়, তবে আমরা তা ইতিবাচকভাবে নেব। তবে শর্ত হচ্ছে, সেখানে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। সদস্যদের অনুপাত হারে সদস্য নির্ধারণ করলে সেখান থেকে ভালো কোনো ফলাফল আসার সম্ভাবনা নেই।”
আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাকে 'মিসকোট' করার অভিযোগ এনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আইনমন্ত্রী বলেছেন যে আমরা সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। আসলে আমরা সংশোধনের কোনো প্রস্তাবে মতামত দিইনি। আমরা বলেছি বিষয়টি ‘সংবিধান সংস্কার’। এখানে আশা করি কোনো ভুল-বোঝাবুঝি হবে না, কারণ আমার বক্তব্য স্পষ্ট ছিল।”
ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারা বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাইলেও আলোচনার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্পিকার তা নাকচ করে দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা সংকট সমাধান করতে এসেছি, সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য করায় আমরা আশাহত হয়েছি। জনগণের চূড়ান্ত রায়কে অসম্মান করায় আমরা প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু ৬৮ শতাংশ মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছে, আমরা তাদের এই গণরায়কে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়েছি। এতে সংসদও সম্মানিত হবে।” সংবিধান 'সংস্কার' ও 'সংশোধন' শব্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে আইনের বড় পরিবর্তনের সুযোগ থাকে, কিন্তু সংশোধনের ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। অতীতের অনেক সংশোধনী আদালতে নাকচ হওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেএইচআর