স্থানীয় নির্বাচনকেই দলের ‘ট্রাম্প কার্ড’ বানাতে চায় এনসিপি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয় পাওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ নজর দিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তরুণদের হাত ধরে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

এই লক্ষ্যে এরই মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের পাশাপাশি সারা দেশে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীও ঘোষণা করতে শুরু করেছে তারা। তবে সিটি করপোরেশনে জোটগতভাবে নির্বাচনের কথা জানালেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এককভাবে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে জোরেশোরে কর্মী সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে এনসিপি। একই সাথে এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য প্রভাবশালী প্রার্থীদের দলে ভেড়াতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন তারা। দলের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক জনসংযোগ কর্মসূচিতে নামবেন তারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জনভোগান্তি দূর করতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি জরুরি। জাতীয় নির্বাচনে দেখা গেছে, ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে ১১ দলীয় জোটের ভোট বেশি। ফলে এই জোটকে ভাগ করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এ জন্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আমরা জোটগতভাবে অংশ নিতে চাই। অনেক জায়গায় দুই দলেরই কিছু অনড় অবস্থান রয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন ঘিরে এলাকায় সংগঠন গোছাতে, পোলিং এজেন্ট তৈরি করতে এবং ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি দিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূলত তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করাই এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল লক্ষ্য।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবার ক্ষেত্রে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেবে বলে আমরা আশা করি। তারা যদি এটা না করে, তাহলে আমাদের সংসদ থেকে রাজপথে নেমে এই দাবি আদায় করে নিতে হবে।” জনগণের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে সামনে বিভিন্ন ধরনের জনসংযোগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা যাতে আসন্ন ভোটে প্রার্থী হতে না পারেন, সেই দাবি জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, “আমরা চাই, যারা এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন এবং মাঠ প্রশাসনকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের মাঝে আস্থা তৈরি করতে হবে।”

জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে জুলাই অভ্যুত্থান থেকে রাজনীতির মাঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি।

জেএইচআর