দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভ্যন্তরীণ সেবা খাতের সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে এমন চারটি ট্রেনিং সেন্টার আছে যেখানে কোনো শিক্ষকও নেই, ছাত্রও নেই। এগুলো স্রেফ এলাকার সাবেক এমপিরা নিজেদের উন্নয়ন দেখাতে তৈরি করেছিলেন। এসব অকার্যকর প্রকল্পের কারণে সরকারি ফান্ডের অপচয় হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক ‘বাংলাদেশ-জাপান ডায়ালগ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা নিজেদের উন্নয়ন জাহির করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করলেও সেগুলোতে জনবল বা শিক্ষার্থীর অভাব রয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল কোনো কাজে আসছে না এবং প্রকল্পের কার্যকারিতা নষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন জাপান ও ইউরোপের শ্রমবাজারে বড় পরিসরে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দেশের নীতিগত জায়গায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
নুরুল হক নুর জানান, প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে অন্য কেন্দ্রগুলোর দুরবস্থা কাটানোর চেষ্টা করা হবে। এ সময় তিনি দেশের নিজস্ব উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে প্রচার না করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সরকারি দপ্তরের সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেবাগ্রহীতা হিসেবে সাধারণ নাগরিকরা এখনো সরকারি দপ্তরে গিয়ে সম্মানের সঙ্গে সেবা পায় না। এই সংস্কৃতির বদল জরুরি।” তবে দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন রয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জেএইচআর