রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। চীনের শিল্প অবকাঠামো ও সেবা খাতে বড় বিনিয়োগ রয়েছে, ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ বিশ্বনেতাদের প্রশংসা অর্জন করেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা প্রদান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে নীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাকেই এগিয়ে নিচ্ছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক বিষয়ে তিনি বলেন, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে যাতে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়। ছোট মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, সীমিত আয়ের এসব ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলা উচিত হবে না। তবে কর দেওয়ার সক্ষমতা থাকা ব্যক্তিদের করের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

রিজভী আরও বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার পরিচালনার মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কলকাতায় হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর নামে একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তার মতে, উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নেতার নামে থাকা সড়কের নাম পরিবর্তন করা রুচিবিরোধী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম এখনো বহাল রয়েছে, যা পারস্পরিক শিষ্টাচারের পরিচায়ক।

এম জি