এসএএইচআর পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর সংকটে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫, ০৯:১৩ পিএম

মানবাধিকার সংস্থা সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর) বাংলাদেশের অভ্যুত্থান–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ এবং মব সহিংসতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি করছে।

সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গণহারে হত্যা মামলা, অভিযুক্তদের জামিন থেকে বঞ্চিত হওয়া, বিচারপ্রক্রিয়ায় ফাঁকফোকর ও বিলম্বের মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

বুধবার বিকালে রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে ‘A Year of Transition in Bangladesh’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এসএএইচআর-এর নির্বাহী পরিচালক দীক্সা ইল্লাঙ্গাসিংহে। 

তিনি জানান, গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গত ২৮ আগস্ট সংস্থার তিনজন সদস্য দেশে আসেন। তারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য উপদেষ্টা, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

দীক্সা ইল্লাঙ্গাসিংহে বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। জননিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী মব, প্রতিহিংসামূলক হামলা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য সংবিধান, বিচারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তাদের সম্পদ ও উপাসনালয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হিন্দু, আহমাদিয়া, সুফি মতাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়, সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী, লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং নারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী, ধর্মীয় গোষ্ঠী ও সংগঠিত মবের উদ্দেশ্যমূলক আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

সংবাদ সম্মেলনে মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাসনের সময় প্রণীত দমনমূলক আইনের অব্যাহত প্রয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অব্যাহত আক্রমণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের অচলাবস্থা, নাগরিক সমাজের মধ্যে মেরুকরণ ও বিভক্তি গভীর হওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএএইচআর-এর কো-চেয়ারম্যান রশমি গোস্বামী, সংগঠনটির সদস্য সারূপ ইজাজ এবং বাংলাদেশ ব্যুরো মেম্বার সাঈদ আহমেদ।

ইএইচ