বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। মাঠে এই দুই দলের লড়াই মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর বিতর্ক। কিন্তু বাস্তব জীবনে যখন ভিন্ন দলের সমর্থক দুইজন একসঙ্গে জীবন ভাগ করে নেন, তখন শুরু হয় এক ভিন্ন ধরনের ‘খেলার সম্পর্ক’।
বড় ম্যাচের আগে অনেক যুগল নিজেদের মধ্যে হাস্যরসের সীমা নির্ধারণ করে নেন, যাতে উত্তেজনা বাড়লেও তা ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব না ফেলে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ম্যাচ-দিনে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পর্কের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচের আগে করে নিন ‘শান্তি চুক্তি’
বড় ম্যাচের আগে ঠিক করে নিন, কে কতটা মজা করতে পারবেন। কারণ ম্যাচের আগে ‘আজ তোমাদের হার নিশ্চিত’ ধরনের মন্তব্য অনেক সময় ম্যাচ শেষে ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই খোঁচা থাকুক, তবে সীমার মধ্যে।
মেসি-নেইমার বিতর্কে যাবেন না
একজন বলবেন মেসিই সেরা, অন্যজন বলবেন নেইমারের মতো প্রতিভা আর নেই। এই বিতর্কের শেষ খুঁজতে গেলে রাত পেরিয়ে যাবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত আসবে না। তাই এমন বিষয়ে বিচারকের দায়িত্ব না নেওয়াই ভালো।
ম্যাচ চলার সময় সম্পর্কের হিসাব নয়
ম্যাচের উত্তেজনার সময় আমাকে কতটা ভালোবাসো? বা আমার জন্য কী করতে পারো?-এমন প্রশ্ন না করাই ভালো। কারণ তখন সঙ্গীর পুরো মনোযোগ থাকে মাঠের দিকে। গোল খাওয়া বা হারার মুহূর্তে আবেগও থাকে তুঙ্গে।
হারলে সান্ত্বনা দিন, ট্রল নয়
আপনার দল জিতেছে বলে সঙ্গীকে সারারাত মিম পাঠানো বা পুরনো হারগুলোর হিসাব খুলে বসা সম্পর্কের জন্য লাল কার্ড পাওয়ার মতো কাজ। আজ আপনি জিতেছেন, কাল পরিস্থিতি উল্টেও যেতে পারে। তাই সঙ্গীর প্রিয় দল হেরে গেলে তাকে সান্ত্বনা দিন।
আলাদা জার্সি, একসঙ্গে ছবি
একজন হলুদ-সবুজ, আরেকজন আকাশি-সাদা জার্সি পরে ছবি তুলুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাপশন দিতে পারেন ‘ঘরে শান্তি আছে, শুধু টিভির সামনে নেই!’
ম্যাচের দিন খাবার নিয়ে ঝগড়া নয়
যে দলই জিতুক, পিজ্জা, বার্গার বা চায়ের দায়িত্ব আগে থেকেই ভাগ করে নিন। খালি পেটে ফুটবল বিতর্ক সাধারণত বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
মনে রাখুন, সম্পর্ক ট্রফির চেয়েও মূল্যবান
বন্ধুত্বপূর্ণ মজা সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে। কিন্তু প্রিয় দলের হারকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। মনে রাখতে হবে, ফুটবল শুধু বিনোদনের অংশ, সম্পর্ক তার চেয়েও বড়।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থক যুগলদের জীবন অনেকটা টানটান একটি ম্যাচের মতো। কখনো হাসি, কখনো তর্ক, কখনো মজার খোঁচা। তবে ভালোবাসা থাকলে শেষ পর্যন্ত জয় হয় সম্পর্কেরই।
অনেকে আবার জানান, প্রিয় খেলোয়াড় বা দলের তুলনা নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্কে না জড়ানোই ভালো, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হয়।
ম্যাচ চলাকালে সঙ্গীর মনোযোগকে সম্মান দেওয়ার পরামর্শও দেন অনেকে। তারা মনে করেন, খেলার সময় ব্যক্তিগত প্রশ্ন বা চাপ সৃষ্টি করলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও পরাজয়ের পর একে অপরকে সমর্থন করা ও মজা করে পরিস্থিতি সামলানো সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে বলে মত দম্পতিদের।
এছাড়া একসঙ্গে ম্যাচ দেখা, আলাদা জার্সি পরা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক ভঙ্গিতে মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া সম্পর্ককে আনন্দময় করে তোলে।
ফুটবল নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতা থাকলে তা সম্পর্কের জন্য বাধা নয়, বরং একে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে বোঝাপড়া থাকলেই সম্পর্ক টিকে থাকে- ফুটবল এখানে শুধু একটি আনন্দের মাধ্যম।
এএন