মাঠের বাইরের নানা প্রতিকূলতা এবং অল্প সময়ের প্রস্তুতি সঙ্গী করেই বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত এক ফল তুলে এনেছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইউরোপীয় শক্তিধর বেলজিয়ামের সঙ্গে ০-০ গোলের সমতায় শেষ করেছে এশিয়ার দলটি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ড্র ইরানের জন্য জয়ের সমান বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। প্রথমার্ধে তারা ইরানের গোলমুখে ২২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল অন-টার্গেট। তবে দৃঢ় রক্ষণ ও গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় ইরান।
যদিও আক্রমণে কম ছিল না ইরানও। ২১তম মিনিটে হোসেইন কানানির দুর্দান্ত শট নিশ্চিত গোলের আভাস দিলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
এরপর ২৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠাতে সক্ষম হয় ইরান। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে আবারও ইরানকে হতাশ করেন কোর্তোয়া। বক্সের ভেতর থেকে মেহদি তারেমির নেওয়া শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন এই গোলরক্ষক।
অন্যদিকে ৬০তম মিনিটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরাভান্দ। ম্যাক্সিম ডি কুইপারের নেওয়া জোরালো শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দিয়ে তিনি দলকে বিপদমুক্ত করেন। পুরো ম্যাচে তিনি একাই ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। বল হারানোর পর মেহদি তারেমিকে আটকাতে গিয়ে পেছন থেকে জার্সি টেনে ধরেন ডিফেন্ডার নাথান এনগয়। এতে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি। ফলে শেষ প্রায় আধাঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বেলজিয়ামকে।
সংখ্যাগত সুবিধা পাওয়ার পর ম্যাচের শেষভাগে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইরান। একাধিক কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আর পাওয়া হয়নি।
শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরানের এই সংগ্রামী পারফরম্যান্স এবং অর্জিত এক পয়েন্ট বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ফলাফল হয়ে থাকল।
এম জি