ফুটবল ইতিহাসে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের চার দশক আজ

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১০:২১ পিএম

দিনটি ছিল ১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আলবিসেলেস্তেদের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আজ সেই ঐতিহাসিক ঘটনার চার দশক বা ৪০ বছর পূর্ণ হলো।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে টানটান উত্তেজনার মধ্যে খেলার ৫২ মিনিটে আসে সেই বহুল আলোচিত মুহূর্ত। ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ভেসে আসা বলের দখল নিতে একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা ও ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিল্টন। সবাইকে চমকে দিয়ে বল জড়ায় ইংল্যান্ডের জালে, আর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোলটি হওয়ার পরপরই মাঠে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। দর্শনার্থী ও ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগে- এটি কি সত্যিই হেড ছিল নাকি ম্যারাডোনার হাতের স্পর্শ? ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের জোরালো দাবি ও প্রতিবাদ জানালেও ম্যাচ অফিশিয়ালরা গোলটিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেন। তখন বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও পরবর্তীতে এটি বিশ্ব ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে এই গোলটি বিশ্বজুড়ে ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিতি পায়। এই নামটির স্রষ্টা ছিলেন স্বয়ং ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ম্যারাডোনা বলেন, গোলটি কিছুটা আমার মাথা দিয়ে এবং বাকিটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে হয়েছে।

দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও ২২ জুন তারিখটি বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য ও কিংবদন্তিতুল্য মুহূর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় ডিয়েগো ম্যারাডোনার এই বিতর্কিত জয়গাথা চিরকাল ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবেই অম্লান হয়ে থাকবে।

জেএইচআর