ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই পরাশক্তির মাঠের লড়াই দেখতে সবসময়ই মুখিয়ে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা। আর সেই লড়াই যদি হয় বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে, তবে তো কথাই নেই। সবশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ তিন যুগ, কিন্তু বৈশ্বিক এই আসরে আর দেখা হয়নি দুই দলের। তবে ফুটবল ভক্তদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেই। সব সমীকরণ মিলে গেলে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই দেখা যেতে পারে সুপার ক্লাসিকো।
চলমান আসরের গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে জর্ডানের বিপক্ষে। সবকিছু ঠিক থাকলে শেষ ম্যাচেও আলবিসেলেস্তাদের জয় দেখছেন বিশ্লেষকরা। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের, যেখানে এগিয়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ উরুগুয়ে।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরুটা আশানুরূপ না হলেও হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যাবে সেলেসাওরা। আর তেমনটি হলে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি জাপানের।
ফলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিজ নিজ অবস্থান থেকে যদি দ্বিতীয় রাউন্ড ও কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, তবেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই পরাশক্তি।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সবশেষ ১৯৯০ সালের ২৪ জুন মুখোমুখি হয়েছিল। ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত সেই হাইভোল্টেজ ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট থেকে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত এটিই দুই দলের একমাত্র লড়াই।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ফুটবল বিশ্বে বইছে উত্তেজনার হাওয়া। সেমিফাইনালে দেখা হলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যেমন মধুর প্রতিশোধ নিতে চাইবে ব্রাজিল, তেমনি নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে লড়বে আলবিসেলেস্তারা।
জেএইচআর