বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-এর শেষ ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তুরস্ক। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে কান আইহানের গোলে জয় নিশ্চিত করে তুর্কিরা। তবে এই জয়ে শেষ পর্যন্ত নকআউটে ওঠা হয়নি তাদের। অন্যদিকে আগেই গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করায় এই হার যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মাত্র তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বল জালে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে লিড এনে দেন ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। মূল একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনেও শুরুতে দারুণ ছন্দে ছিল মরিসিও পচেত্তিনোর দল।
তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। প্রথম দুই ম্যাচে গোলশূন্য থাকা আরদা গুলের সমতা ফেরান। এরপর বারিস ইলমাজ আরেকটি গোল করে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তুরস্ককে।
বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও লড়াইয়ে ফেরে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতা আনেন সেবাস্তিয়ান বারহাল্টার। এরপর দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং জয়ের সুযোগ খুঁজতে থাকে।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে তুরস্কের হয়ে নায়ক বনে যান বদলি খেলোয়াড় কান আইহান। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এই জয় তুরস্কের জন্য কেবল সান্ত্বনার। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে হতাশাজনক ফলের কারণে আগেই তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেষ ম্যাচে শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে অন্তত ইতিবাচক স্মৃতি নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল তারা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই পরাজয় বড় কোনো ধাক্কা নয়। গ্রুপের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত করে ফেলায় এখন তাদের পুরো মনোযোগ শেষ ৩২-এর ম্যাচে। নকআউট পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে পচেত্তিনোর দল।
ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সুখবরও ছিল। প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ার পর এই প্রথম মাঠে ফেরেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। ৫৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে কয়েকটি আক্রমণে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে নতুন দুশ্চিন্তারও জন্ম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিবিরে। প্রথম গোলদাতা অস্টন ট্রাস্টি শেষদিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। নকআউট পর্ব শুরুর আগে তার চোটের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এম জি