২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলো যে ছয় দেশ

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পাওয়ায় ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করেছে ছয়টি দেশ- স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।

মূল আয়োজক হিসেবে টুর্নামেন্ট পরিচালনা করবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। অন্যদিকে, ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, স্বাগতিক হওয়ায় এই ছয় দেশকে বাছাইপর্ব খেলতে হবে না।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। তবে এই আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আরও আগে। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিডিং কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। প্রথমে মরক্কো এককভাবে আয়োজনের আগ্রহ দেখালেও পরে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথ প্রস্তাব দেয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবই একমাত্র বৈধ বিড হিসেবে অনুমোদিত হয়।

বিশ্বকাপের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস এইরেস এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপ ও আফ্রিকায়, যেখানে অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে।

এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হবে মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়াম। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া উদ্বোধনী পর্বের অন্য দুটি ম্যাচ হবে বুয়েনেস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামে।

ফিফার প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং পর্দা নামবে ২১ জুলাই। মোট ৪৪ দিনব্যাপী চলবে এই আসর, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ টুর্নামেন্ট। তিন মহাদেশে ম্যাচ আয়োজন, উদ্বোধনী পর্বের বিশেষ আয়োজন এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এবার সূচি আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় দীর্ঘ করা হয়েছে।

এএন