ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে কে শীর্ষে? হালান্ড, মেসি নাকি এমবাপ্পে

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলারদের মাঠের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য প্রথমবারের মতো এক অত্যাধুনিক ও যুগান্তকারী ব্যবস্থা চালু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, যার নাম ‘ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং’। বৈশ্বিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর কারিগরি সহযোগিতায় তৈরি এই বিশেষ র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের সামগ্রিক অবদান উন্নত ডেটা ও বিশেষ অ্যালগরিদমের সাহায্যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ফিফার ভাষ্যমতে, এই নতুন ব্যবস্থা কেবল ট্র্যাডিশনাল বা প্রচলিত গোল এবং অ্যাসিস্টের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়নি। বরং একজন খেলোয়াড় মাঠে কতটা সৃজনশীল পাস দিয়েছেন, রক্ষণভাগে কেমন অবদান রেখেছেন কিংবা পুরো ম্যাচে দলের ওপর কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন- তার সবটুকুই নিখুঁতভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ফিফা প্রকাশিত সর্বশেষ অফিশিয়াল পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং ক্লাসিফিকেশনের শীর্ষ তালিকা অনুযায়ী, সবাইকে ছাড়িয়ে বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বা শীর্ষ স্থানটি দখল করে আছেন ফরাসি ফুটবল মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৮.৭১ অ্যাটাকিং রেটিং নিয়ে তিনি বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন।

এমবাপ্পের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ‘গোলমেশিন’ আর্লিং হালান্ড অবস্থান করছেন এই তালিকার তিন নম্বর স্থানে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ তিন মহাতারকার অফিশিয়াল রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান:

  • ১. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): অ্যাটাকিং: ৮.৭১ | ক্রিয়েটিভিটি: ৭.৫২ | ডিফেন্ডিং: ৪.৭১
  • ২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): অ্যাটাকিং: ৮.৪৫ | ক্রিয়েটিভিটি: ৭.০৫ | ডিফেন্ডিং: ৪.৫৩
  • ৩. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে): অ্যাটাকিং: ৮.০৪ | ক্রিয়েটিভিটি: ৪.৮৪ | ডিফেন্ডিং: ৫.৩১

আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মূলত তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে- অ্যাটাকিং (আক্রমণ), ক্রিয়েটিভিটি (সৃজনশীলতা) ও ডিফেন্ডিং (রক্ষণ)। অন্যদিকে গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হচ্ছে দুটি দিক- গোল রক্ষা ও বল দখলে রাখার দক্ষতা। প্রতিটি ম্যাচে পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়রা ০ থেকে ১০-এর স্কেলে নম্বর পেয়ে থাকেন। তবে রেটিং পাওয়ার শর্ত হলো, একজন ফুটবলারকে ম্যাচে অন্তত ২০ মিনিট মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। প্রতি রাউন্ডের ম্যাচ শেষ হওয়ার পরবর্তী চার ঘণ্টার মধ্যে এই ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট করা হয়।

ফিফা জানিয়েছে, পুরো সিস্টেমটি তৈরি করেছে তাদের ‘ফুটবল পারফরম্যান্স ইনসাইটস টিম’। আর এই পুরো প্রকল্পটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার এবং ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ।

প্রচলিত পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতা ভেঙে ফুটবলপ্রেমী, কোচ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে খেলোয়াড়দের নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত পারফরম্যান্সের চিত্র তুলে ধরাই এই র‍্যাঙ্কিংয়ের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি রাউন্ড শেষে বিশ্বমঞ্চের সেরা ১০০ জন ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করছে ফিফা।

জেএইচআর