বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামী ১৬ জুলাই আটলান্টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল। এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের সর্বশেষ নকআউট লড়াইয়ের স্মৃতি ফিরে এসেছে আলোচনায়, যেখানে আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক ছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা।
বিশ্বকাপে সবশেষ ২০০২ সালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দিয়েছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা হয়নি দুই দলের।
তবে এবার সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। সেমিফাইনালে প্রায় দুই যুগ পর বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যদিও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বশেষ দুই দলের দেখা হয়েছিল ১৯৮৬ সালের আসরে। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই কোয়ার্টার ফাইনাল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আবেগ। এর মাত্র চার বছর আগে ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা পরাজিত হওয়ায় মাঠের লড়াইটি দুই দেশের মানুষের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি ঐতিহাসিক গোল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা।
ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্টিভ হজ বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের দিকে উঁচু করে পাঠান। বলের দখল নিতে লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা ও ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটন। উচ্চতায় শিলটন এগিয়ে থাকলেও ম্যারাডোনা নিজের বাম হাত ব্যবহার করে বলটি তার মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন।
তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের সেই হ্যান্ডবলটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন। পরে এই গোল ফুটবল ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়। গোলটি নিয়ে ম্যারাডোনা মজা করে বলেছিলেন, এটি কিছুটা তার মাথা দিয়ে এবং কিছুটা ‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে করা হয়েছিল।
এরপর সেই ম্যাচেই আরেকটি অবিশ্বাস্য গোল করেন ম্যারাডোনা, যা পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা। সেই আসরেই বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তারা।
প্রায় ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই সেমিফাইনালের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ ও বিতর্কিত গোল।
বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। তবে নকআউট পর্বে দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি লড়াই- ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে- দুটিতেই জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের আগের পাঁচ ম্যাচের ফলাফল:
এএন