বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির কাছে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ বছর বয়সেও রেকর্ডের খাতা ওলটপালট করে চলেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে এক অনন্য অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুটি নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। অধিনায়কের এমন কীর্তির দিনে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই লিড নেয় আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত কর্নার থেকে হেডের সাহায্যে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। দ্বিতীয়রর্ধের ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। তবে এর কিছুক্ষণ পরই ডাইভ দেওয়ার অপরাধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এই সুযোগ কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাক অ্যালিস্টারের সেই গোলে সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেলেন মেসি। এর ফলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুই অঙ্কের অ্যাসিস্ট করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এতদিন ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। সেই রেকর্ডটি এখন এককভাবে নিজের করে নিলেন বর্তমান মহাতারকা।
রেকর্ডের এখানেই শেষ নয়। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির ১৫তম ম্যাচ। এই ম্যাচ খেলার মাধ্যমে জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নতুন কীর্তি গড়লেন তিনি। এক ম্যাচেই ম্যারাডোনা ও ক্লোসের দুটি বড় রেকর্ড ভেঙে ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও উঁচুতে তুললেন আটবারের ব্যাল ডি'অরজয়ী এই তারকা। এখন তাঁর সামনে লক্ষ্য আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার সোনালী ট্রফি এনে দেওয়া।
জেএইচআর